তৃণমূল কংগ্রেসের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট সংক্রান্ত মামলায় মঙ্গলবার সকাল থেকে অভিযান শুরু করেছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। তদন্তের অংশ হিসেবে মধ্য কলকাতা, সল্টলেক-সহ একাধিক জায়গায় তল্লাশি চালানো হচ্ছে।
তদন্তকারী সংস্থার সূত্রে জানা গিয়েছে, লালবাজার সংলগ্ন মধ্য কলকাতার একটি ঠিকানায় সকাল থেকেই তল্লাশি শুরু হয়। পাশাপাশি সল্টলেকের সিজি ব্লকে এক ব্যবসায়ীর বাড়িতেও অভিযান চালানো হচ্ছে। ওই ব্যবসায়ীর একাধিক সংস্থার মধ্যে একটি চার্টার্ড বিমান পরিষেবা প্রদানকারী সংস্থাও রয়েছে। তদন্তকারীদের প্রাথমিক অনুমান, প্রাক্তন রাজ্য সরকারের আমলে বিভিন্ন ভিভিআইপি-কে চার্টার্ড বিমান পরিষেবা দিয়েছিল ওই সংস্থাটি। সেই সূত্রেই নথি ও আর্থিক লেনদেন খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এই তদন্তের সূত্রপাত হয় তৃণমূলের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট সংক্রান্ত একটি মামলাকে কেন্দ্র করে। বিধানসভা নির্বাচনের পর দলের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে প্রাক্তন কোষাধ্যক্ষ অরূপ বিশ্বাস দলের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করার আবেদন জানিয়েছিলেন বলে জানা যায়। যদিও ব্যাঙ্কে পাঠানো চিঠিতে তিনি নিজেকে দলের কোষাধ্যক্ষ হিসেবেই উল্লেখ করেছিলেন।
পরবর্তীতে, গত ১৮ জুন দক্ষিণ ২৪ পরগনার এক বিধায়ক বিধাননগর সাইবার থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। তাঁর অভিযোগ ছিল, বড় ধরনের একটি সাইবার প্রতারণার অর্থ কয়েকটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে জমা পড়েছে এবং সেই তালিকায় তৃণমূলের কিছু ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টও থাকতে পারে। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ এফআইআর দায়ের করে এবং পরদিন সংশ্লিষ্ট তিনটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে অর্থ উত্তোলন সাময়িকভাবে স্থগিত (ডেবিট ফ্রিজ) করার নির্দেশ দেয়।
এরপর ওই মামলার তদন্তভার গ্রহণ করে ইডি। মঙ্গলবারের অভিযান সেই তদন্তেরই অংশ বলে তদন্তকারী সংস্থার সূত্রে জানা গিয়েছে।
উল্লেখ্য, পূর্বতন সরকারের আমলে বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতার চার্টার্ড বিমানে যাতায়াত নিয়ে সম্প্রতি তৃণমূলের অন্দরেই বিতর্ক দেখা দেয়। ঋতব্রত শিবির ও কালীঘাট শিবির— উভয় পক্ষই বিষয়টি নিয়ে প্রকাশ্যে মত প্রকাশ করে। সেই বিতর্কের আবহের মধ্যেই ইডির এই অভিযান রাজনৈতিক মহলে নতুন করে চর্চার বিষয় হয়ে উঠেছে।
তবে এই মুহূর্তে তদন্ত চলছে এবং ইডির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কোনও বিবৃতি প্রকাশ করা হয়নি। তদন্তের অগ্রগতির ভিত্তিতে পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারিত হবে।

