শরীরে ক্ষতিকর কোলেস্টেরল (এলডিএল) বেড়ে গেলেও অনেক সময় তার কোনও স্পষ্ট লক্ষণ দেখা যায় না। ব্যথা, জ্বর বা অন্য কোনও দৃশ্যমান উপসর্গ ছাড়াই ধীরে ধীরে রক্তনালির দেওয়ালে চর্বি জমতে শুরু করতে পারে। দীর্ঘদিন ধরে এই অবস্থা চলতে থাকলে ভবিষ্যতে হৃদ্‌রোগ, হার্ট অ্যাটাক বা স্ট্রোকের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যেতে পারে। এই কারণেই চিকিৎসকদের একাংশ কোলেস্টেরলকে ‘নীরব ঘাতক’ বলে অভিহিত করেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, হৃদ্‌রোগ হঠাৎ করে তৈরি হয় না। বছরের পর বছর ধরে ধমনিতে চর্বি জমার ফলে রক্তপ্রবাহে বাধা সৃষ্টি হয়, যা একসময় গুরুতর হৃদ্‌রোগের কারণ হতে পারে। তাই শরীরে কোনও উপসর্গ না থাকলেও নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানো এবং কোলেস্টেরলের মাত্রা পর্যবেক্ষণ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

স্বাস্থ্যকর হৃদ্‌যন্ত্রের জন্য সুষম খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত শারীরচর্চা, পর্যাপ্ত ঘুম, ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য এড়িয়ে চলা এবং ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখার পরামর্শ দেন চিকিৎসকরা। পাশাপাশি, প্রয়োজন হলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ সেবনও গুরুত্বপূর্ণ।

American Heart Association (AHA) এবং American College of Cardiology (ACC)-এর নির্দেশিকা অনুযায়ী, অল্প বয়স থেকেই কোলেস্টেরল সম্পর্কে সচেতন হওয়া এবং নিয়মিত তা নিয়ন্ত্রণে রাখার অভ্যাস গড়ে তোলা উচিত। বিশেষজ্ঞদের মতে, হৃদ্‌রোগ প্রতিরোধে জীবনভর স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন এবং কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়মিত পর্যবেক্ষণই সবচেয়ে কার্যকর উপায়।

স্বাস্থ্যবিষয়ক পরামর্শ: এই প্রতিবেদনটি সাধারণ তথ্যের উদ্দেশ্যে প্রকাশিত। কোলেস্টেরল বা হৃদ্‌রোগ সংক্রান্ত কোনও সমস্যা বা ঝুঁকি থাকলে অবশ্যই চিকিৎসক বা হৃদ্‌রোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।