১৯৯৩ সালের ২১ জুলাইয়ের গুলিকাণ্ডের পুনর্তদন্ত ও বিচার দাবি করে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে চিঠি দিলেন বারাসতের সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার। চিঠিতে তিনি অভিযোগ করেছেন, তৎকালীন ঘটনায় অভিযুক্তদের পরবর্তী সময়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার আড়াল করেছে এবং তাঁদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
চিঠিতে কাকলি ঘোষ দস্তিদার পাঁচ দফা দাবি জানিয়েছেন। তাঁর দাবি, ১৯৯৩ সালের ঘটনায় নতুন করে তদন্ত শুরু করা হোক। তৎকালীন বাম সরকারের আমলে চিহ্নিত দোষী পুলিশ আধিকারিক ও প্রশাসনিক কর্তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ধারায় চার্জশিট দাখিল করা হোক। পাশাপাশি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার গঠিত ২১ জুলাই কমিশনের রিপোর্ট প্রকাশ্যে আনারও দাবি জানিয়েছেন তিনি। এছাড়া, অভিযুক্ত হয়েও যাঁরা পরবর্তী সময়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব বা পদে অধিষ্ঠিত হয়েছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ এবং প্রয়োজনে আন্তর্জাতিক সংস্থার সহায়তায় তদন্তের দাবিও তুলেছেন তিনি।
উল্লেখ্য, ১৯৯৩ সালে যুব কংগ্রেসের সভানেত্রী হিসেবে সচিত্র ভোটার পরিচয়পত্রের দাবিতে মহাকরণ অভিযান কর্মসূচির নেতৃত্ব দিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই কর্মসূচিকে ঘিরে এসপ্ল্যানেড ও সংলগ্ন এলাকায় পুলিশের গুলিতে ১৩ জনের মৃত্যু হয়। ঘটনাক্রমে, সেই সময় কাকলি ঘোষ দস্তিদারও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে আন্দোলনে যুক্ত ছিলেন।
২০২৬ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর কাকলি ঘোষ দস্তিদারের নেতৃত্বে তৃণমূলের একাংশের সাংসদরা দল ছেড়ে এনসিপিআই-এ যোগ দেন। সম্প্রতি তিনি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে সাক্ষাৎও করেন। তার কিছুদিনের মধ্যেই ২১ জুলাইয়ের ঘটনায় পুনর্তদন্তের দাবিতে এই চিঠি রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০১১ সালে ক্ষমতায় আসার পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকার ২১ জুলাই গুলিকাণ্ডের তদন্তে একটি বিচারবিভাগীয় কমিশন গঠন করেছিল। প্রাক্তন বিচারপতি সুশান্ত চট্টোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন সেই কমিশনে তৎকালীন একাধিক প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বকে হাজিরা দিতে হয়েছিল। সেই কমিশনের রিপোর্ট প্রকাশ্যে আনার দাবিও জানিয়েছেন কাকলি ঘোষ দস্তিদার।
যদিও কাকলির উত্থাপিত অভিযোগগুলির বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া এখনও সামনে আসেনি। বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে।

